কর্ণফুলীর তীরে শুঁটকি তৈরির ধুম

2016-11-30

মাছে ভাতে বাঙ্গালী’ প্রবাদটি বিশ্বের সব বাঙ্গালীকে এক বাক্যে পরিচিত করানোর জন্য যথেষ্ট হলেও, চট্টগ্রামে এর আবেদনটা একটু ভিন্ন মাত্রার। একসময় এই অঞ্চলে বিবাহ ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে লাক্ষ্যা শুটকি ছাড়া আপ্যায়নের কথা চিন্তাও করা যেত না। কনে পক্ষের প্রতি বড় পক্ষের অন্যতম আবদার থাকতো লাক্ষ্যা শুটকির খাবারের পদ। সময়ের সাথে সে ঐতিহ্য রং হারালেও, শীত এলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের খাদ্য তালিকায় অগ্রাধিকার পায় শুঁটকি। আর সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে শীত মৌসুম ঘিরে কর্ণফুলীর তীরে চলছে শুঁটকি তৈরির ধুম। চট্টগ্রামের মেজবানি মাংসের’ মতই বিশেষায়িত আরো একটি খাবার মাছের তৈরি ‘শুঁটকির’ চাহিদা যেমন ব্যাপক তেমনি তা তৈরিতেও রয়েছে ঐতিহ্য। বর্তমানে তা আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে এটি ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এমনকি শুঁটকি এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এখান থেকে প্রতি সপ্তাহে শতাধিক টন শুটকি নগরীর পাইকারি বাজার আছাদগঞ্জে সরবরাহ করা হয়। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এখানে শুটকি তৈরিতে তুলনামূলক খরচ কম পড়ে। নদী ও সাগর থেকে মাছ আহরণ করে সহজ পথে এখানে আনা যায়। এছাড়াও কর্ণফুলী তীরের বাতাস আর্দ্রতামিশ্রিত, তাই অন্য শুটকির চেয়ে এখানকার শুটকির স্বাদ-গন্ধ একটু আলাদা। প্রতি মৌসুমে অন্তত ৯ থেকে ১০ কোটি টাকার শুঁটকি কর্ণফুলী তীর থেকে সরবরাহ করা হয়।

ফিচার
সর্বশেষ