হেমন্ত থেকে শীতে জার্মানরা যে দশটি কাজ করেন

2016-11-30

জার্মানিতে হেমন্ত মানেই ঝরাপাতা; পথেঘাটে, বনেজঙ্গলে হেমন্তের পাতাবাহার৷ আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঘরে বসে বই পড়াও চলে৷ তবে জার্মানরা এই মরশুমে আরো অনেক কাজ বা ‘অকাজ’ করে থাকেন৷ ছোটদের হাতে কাগজের লণ্ঠন প্রতিবছর নভেম্বরের গোড়ার দিকে আসে সেন্ট মার্টিনস ডে, সেই খ্রিষ্টান সন্ত যিনি এক ঝড়ের দিনে এক ভিখিরিকে তাঁর ক্লোক দান করেছিলেন৷ ছোটরা এদিন তাদের নিজেদের তৈরি কাগজের লন্ঠন হাতে নিয়ে মিছিল করে যায় সন্ত মার্টিনের গান গাইতে গাইতে৷ বড়দের কেউ একজন সন্ত মার্টিন সেজে সাদা ঘোড়ায় চড়ে শোভাযাত্রার সাথে যান৷ কার্নিভাল কার্নিভালের সূচনা হলো বছরের এগারো নম্বর মাস অর্থাৎ নভেম্বরের এগারো তারিখে সকাল এগারোটা বেজে এগারোটা মিনিটে৷ জার্মানিতে কার্নিভালের তিনটি মূল ঘাঁটি কোলোন, ড্যুসেলডর্ফ আর মাইঞ্জে এই দিনটি বিশেষ ধুমধামসহ পালন করা হয়৷ কার্নিভালের মরশুম শেষ হয় পরের বছর অ্যাশ ওয়েডনেস ডে-তে, ২০১৭ সালে যা পড়বে পয়লা মার্চে৷ বাদামের মরশুম বিশেষ করে চেস্টনাট৷ বাদামগুলো ঢাকা থাকে কাঁটাওয়ালা সবুজ খোলার মধ্যে৷ এই চেস্টনাট খাওয়ার চেস্টনাট নয়, কিন্তু ছোটরা এগুলো কুড়োতে ভালোবাসে, তাই দিয়ে নানা ধরনের ছোট ছোট জন্তুজানোয়ার বানাতে ভালোবাসে৷ মাশরুম খোঁজা হেমন্তের জঙ্গলে ব্যাঙের ছাতা খুঁজতে বেরোন অনেকে, খাওয়া যায়, এমন সব ব্যাঙের ছাতা; ভেজে বা রান্না করে কিংবা ওমলেটে দিয়ে৷ মুশকিল হলো, বিষাক্ত ব্যাঙের ছাতারও কোনো অভাব নেই, তার ওপর তাদের অনেককে অন্য কোনো নির্দোষ ও সুস্বাদু ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে৷ কাজেই মাশরুম খোঁজার কাজটা আনাড়িদের জন্য নয়, নয়তো হাসপাতালে যেতে হতে পারে৷ ঝরা পাতা হেমন্ত মানেই পাতা ঝরার দিন৷ তবে ঝরার আগে গাছের পাতা যেন বহুরুপীর মতো রঙ বদলায়, সবুজ থেকে বেগুনি, লাল হয়ে হলুদ ও শেষমেশ বাদামি৷ স্পা বা উষ্ণ প্রস্রবণ ইংরেজিতে বলে থার্মাল বাথ, অর্থাৎ সারা বছর গোসল করা যায়, এমন গরম পানির সুইমিং পুল৷ এগুলো শীতেও খোলা থাকে এবং জার্মানদের অতি প্রিয়৷ মুশকিল এই যে, স্পা’র কোনো কোনো বিভাগে, যেমন সনায়, জামাকাপড় পরার নিয়ম নেই, কাজেই সাথে একটা তোয়ালে রাখা ভালো৷ গরম কাপড় বার করা পশমের মোজা থেকে শুরু করে আন্ডায়ওয়্যার হয়ে মাথা ঢাকার টুপি অবধি, পশম ছাড়া জার্মানিতে শীত কাটানোর কথা ভাবাই

প্রবাস
সর্বশেষ