ফখরুল ইসলাম ২ দিনের রিমান্ডে

2017-07-19

রাজধানীর মতিঝিলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নিজ কার্যালয়ে ঘুষসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার এ কে এম ফখরুল ইসলামকে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে দুদকের পক্ষ থেকে এই আসামিকে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। পক্ষান্তরে তার আইনজীবী জামিনে জন্য আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত ২ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন। প্রসঙ্গত গতকাল মঙ্গলবার দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। নাসিম আনোয়ার বলেন, অভিযোগ রয়েছে, ফখরুল ইসলাম ঘুষ না নিয়ে জাহাজের নকশা অনুমোদন করেন না। জাহাজের প্রকারভেদে ৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের রেট ওঠানামা করে। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এগুলো কমিশনের নজরে এনে অনুমোদন নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষে জাহাঙ্গীর আলম আদালতকে বলেন, এই আসামি নকশা অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুষ নিয়েছেন, যা দুদকের ফাঁদ পাতা টিম হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এই অনৈতিক কর্মকা- করেছেন। তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। কেন তিনি এই অনৈতিক কর্মকা- করতেন এবং তার অফিসে আর কে কে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে এই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এদিকে এই আসামির পক্ষে আদালতে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী কবির হোসাইন। আদালতকে তিনি বলেন, এই আসামি কোনো ঘুষ গ্রহণ করেননি। তিনি যখন অফিসে খাবার খাচ্ছিলেন তখন অন্য কেউ ওই টাকা রেখে গেছেন। এটা ওই অফিস কক্ষের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, অফিসে পক্ষ-বিপক্ষে লোক থাকে। বাস্তবে তার কাছ থেকে কোনো টাকাই উদ্ধার হয়নি। আসামির পকেট থেকে কিংবা আসামির ড্রয়ার থেকে কোনো টাকা উদ্ধার হয়নি। তিনি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার।

আইন ও আদালত
সর্বশেষ